১০ জানুয়ারি ২০১৫

খবরকাগজ
  • বড়োদিনের ভোজ



    সুজয় রায়

    দেশে দেশে বড়োদিন আর  নববর্ষষকে স্বাগত জানাবার কত না কায়দাকানুন।আজ তার কিছু গল্প

    3]

    রোমানিয়ায় চাষীরা ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা করে। উদ্দেশ্য,  পোষা জীবজানোয়ারের দল কী বলে ফিসফিসিয়ে তাই শোনা।
    জোহানসবার্গের লোকজন আবার করে কি, নিউ ইয়ার্স ইভ এ ঘরের জানালা দিয়ে পুরোনো আসবাবপত্তর ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে। ওতে নাকি নতুন বছরটা বেশ নতুনভাবে শুরু  করা যায়। সাইবেরিয়াতে, পেশাদার ডুবুরিরা বছরশেষে বৈকাল হ্রদের ওপরে জমা পুরু বরফ কেটে গর্ত বানিয়ে তাই  দিয়ে হাড়জমানো ঠান্ডা জলে ডাইভ মেরে হ্রদের নীচে নিউ ইয়ার ট্রি পুঁতে দিয়ে আসে।
    চিলিতে নতুন বছরের দিনটা কবরখানায়  ক্যাম্প করে থাকবার রেওয়াজ আছে।  উদ্দেশ্য বচ্ছরকার দিনটা মৃত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কাটানো।
    অস্ট্রেলিয়ায় সান্তা কিন্তু বলগাহরিণের রথে চেপে আসে না। সেখানে সে আসে ক্যাঙারু চেপে।  সেখানে ক্রিসমাস ডের আরেক কায়দাও রয়েছে।সিডনি বন্দর থেকে সান্তা রওনা হয় দাঁড়টানা নৌকোয়। নৌকো বেয়ে নিয়ে যান পেশাদার লাইফ সেভাররা। শহরের লোকজন রিভারফ্রন্টে ভিড় জমায় টিশার্ট-শর্টস এ সেজে। (কেন তাদের শীত লাগে না কেউ কি জানো? হাওয়াই দ্বীপে সান্তা আবার ক্যানো বেয়ে হাজির হয়।  নেদারল্যান্ডে আসে ঘোড়ার পিঠে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বড়োদিনের ভোজে অনেকের পাতে ইয়া গাবদাগোবদা ইয়াম্মি শুঁয়োপোকা দেখা যায়। গ্রিনল্যান্ডে নতুন বছর আসবার কয়েকমাস আগেই সেখানকার ইন্যুইটরা সিলের চামড়ার থলেয় করে কয়েকশ অক পাখি মাটির তলায় পুঁতে রেখে দেয়। নতুন বছরের ভোজে সেই টকে যাওয়া কিভিয়াক নামের মাংসের বেজায় খাতির।
    স্লোভাকিয়ায় প্রাক নববর্ষের দিনটায় বাড়ির কর্তা চামচে করে দলা দলা লোসকা(পুডিং)   ছুঁড়ে মারে ঘিরের ছাদের দিকে। যত বেশি লোসকা ছাদে আটকে থাকবে ততই ভালো ফসল হবে পরের বছর এই তাদের বিশ্বাস।
    ফিনল্যাণ্ডের বড়োদিনে ভোজের টেবিলে ভরাভর্তি প্লেট রাখা হয় একখানা। মৃত পূর্বপুরুষরা নাকি ওই একটা দিন বাড়ির সবার সঙ্গে বসে ভোজ খান।
    ক্যাটালোনিয়ায় একখণ্ড পবিত্র কাঠ (তাকে ইউল লগ বলে) কে গরম জামাটামা পরিয়ে বড়োদিনের ভোজ খাওয়ায় বাচ্চারা আর বড়োদিনের আগের দিন সন্ধেবেলা সেই ইউল লগকে বাড়ির ছোটোরা মিলে বেজায় লাঠিপেটা করে। পিটুনি খেলে তবেই নাকি ইউল লগ বড়োদিনের ভালো ভালো উপহার দেবে। তাছাড়া, ওদিন কিউবানরা বাসন বাজিয়ে গান করে, ভেনেজুয়েলানরা স্কেটিং করে চার্চে যায়, যুগোস্লাভিয়ায় বাচ্চারা মায়ের পা বেঁধে রেখে গান গায়, "খুলতে পারি দড়ি
    আগে গিফট দাও হাত ভরি"
    এমনি কতই মজার মজার বড়োদিন আর নতুন বছর কাটাবার কায়দা আছে! সব বলতে গেলে তিনটে গোটা জয়ঢাক বোঝাই হয়ে যাবে। সে কখনো পড়ে ফের বলব। আজ এইটুকু।
    [/h3]