১০ এপ্রিল ২০১৬

  • ভাল আছে কুঙ্কুশ



    যুদ্ধশ্রান্ত ইরাক থেকে পালিয়ে আসছিল কুঙ্কুশ তার পরিবারের সাথে। নৌকোয় করে গ্রিসের লেসবস দ্বীপে নামবার পর ভিড়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয় যায় তাদের। তার পরিবার বাধ্য হয় তাকে ফেলে রেখে নরওয়ে চলে যেতে। তারপর স্থানীয় লোকজনের ভালবাসা ও স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তার পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেল নরওয়েতে। খবর পেয়ে উচ্ছসিত মা ও তার তিন ছেলেমেয়ে। কতদিন পর তাঁদের আহ্লাদের বিড়ালের দেখা পাবেন তাঁরা।
    হ্যাঁ, এতক্ষণ একটা বিড়ালের কথাই বলছিলাম। কুঙ্কুশ টার্কিশ ভ্যান জাতের বিড়াল। তার গায়ের রং ধবধবে সাদা, আর চোখগুলো সোনালী। এহেন পুষ্যিকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের তো মাথায় হাত। হারিয়ে যাওয়ার দিনই বেশ কয়েকঘন্টা ধরে সার্চ পার্টি খোঁজার চেষ্টা করে তাকে, কিন্তু চারদিকে এত ভিড়, এত আওয়াজে ভয় পেয়ে লুকিয়ে পড়েছিল কুঙ্কুশ।
    বেরোল যখন, তখন আর কেউ তার অপেক্ষায় নেই। কদিন পরে স্থানীয় মানুষ তাকে বেশ খারাপ অবস্থায়ই খুঁজে পেল। তার সাদা লোম কাদায়, নোংরায় চটচটে হয়ে গেছে, আর আশপাশের অন্যান্য বিড়ালদের অত্যাচারে তার অবস্থাও করুণ।
    অতএব তার ভার তুলে নিলেন স্থানীয় মানুষ। তাকে খেতে দেওয়া, ওষুধ খাওয়ানো থেকে ভ্যাকসিনেশান – সবকিছুরই ব্যবস্থা করলেন তাঁরা। আর তার সঙ্গে তার একটা নতুন নামও দিলেন, ‘ডিয়াস।’ প্রাচীন গ্রীক দেবতা ‘জিউস’-এর নামের আধুনিক রূপ এটি।
    এদিকে তার ইরাকি পরিবারের খোঁজ চালিয়ে যেতে থাকল তিন মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী, অ্যাশলি অ্যান্ডার্সন, এমি শ্রোডস ও মিশেল নিন। এরা পোস্টার বানিয়ে, ইন্টারনেটে কুঙ্কুশের ছবি দিয়ে তার পরিবারের খোঁজ চালিয়ে গেল। এদিকে বার্লিন থেকে একজন তাকে দত্তক নেওয়ার প্রস্তাবও দিলেন, তা যদিও একবছরের মধ্যে তার ইরাকি পরিবারকে খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলেই প্রযোজ্য।
    এক বছর কেটে যাবার পর বার্লিনে তাকে পাঠিয়েই দেওয়া হল একটা লম্বা প্লেন সফরে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরেও কিন্তু গ্রিস থেকে এরা তার পরিবারকে খুঁজেই চলল। অবশেষে ফেব্রুয়ারির মাসের মাঝামাঝি কুঙ্কুশের নামে ফেসবুক গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করলেন নরওয়ের এক বাসিন্দা। তাঁর বক্তব্য ছিল এই যে ইরাকের মোসুল থেকে আসা পরিবারটি কিছুকাল আগে তাঁদের পাশের বাড়িতে থাকা শুরু করেছে। ডেইলি মেইলের একটা খবরে তাদের হারিয়ে যাওয়া বিড়ালের ছবি দেখতে পেয়ে তো তাদের আনন্দের আর সীমা নেই।
    যোগাযোগ করা হল তাদের সঙ্গে, আর সাথেসাথেই কুঙ্কুশের আসল নাম সহ কিছু পুরোন ছবি পাঠিয়ে দিল তারা স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে। উপযুক্ত প্রমাণ পেয়ে স্কাইপে ভিডিও চ্যাটেরও ব্যবস্থা করা হল।
    কুঙ্কুশ তার পরিবারকে ল্যাপটপের পর্দায় দেখে যে কতটা খুশি হয়েছে তা বোঝা গেল যখন সে ল্যাপটপের পিছনে তারা আছে কিনা তা দেখবার জন্য উঁকি মারতে লাগল।
    এরপর আর কী! বার্লিন থেকে নরওয়ে তারপর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন।



    ভাল আছে কুঙ্কুশ।