২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

খবরকাগজ
  • শহর গড়া হবে শুক্রের আকাশে
    কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়



    পৃথিবীতে যে হারে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তাতে এই গ্রহে ভবিষ্যতে আর থাকার জায়গা পাওয়া যাবে না। তাই এখন থেকেই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে ভবিষ্যতে মানুষ অন্য কোনো গ্রহে গিয়ে বসবাস করতে পারে। আর এব্যাপারে তাঁদের পছন্দের গ্রহ মঙ্গল। বলা হচ্ছে সেখানে পৃথিবীর মতো পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহের পাশাপাশি শুক্রগ্রহকেও এই পরিকল্পনার আওতায় এনেছেন। তবে এই গ্রহে পৃথিবীর মতো পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে এমন কথা কিন্তু তাঁরা বলছেন না। তাহলে কীভাবে শুক্রগ্রহে গিয়ে থাকা যাবে? এক্ষেত্রে পরিকল্পনাটা একটু অদ্ভুত। কেমন, সে কথায় আসার আগে এই গ্রহের আবহাওয়া সম্পর্কে একটু জেনে নিই।
    সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে শুক্র হল দ্বিতীয় গ্রহ। সন্ধ্যায় এবং ভোরে পশ্চিম এবং পূর্ব আকাশে যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কটিকে আমরা দেখতে পাই সেটাই হল শুক্রগ্রহ। যদিও ভুল করে আমরা ‘সন্ধ্যাতারা’ এবং ‘শুকতারা’ বলে থাকি। আসলে আর কোনো গ্রহকে পৃথিবী থেকে এত উজ্জ্বল দেখায় না। এই গ্রহটি আকারে আকৃতিতে প্রায় পৃথিবীর মত। তাই পৃথিবী এবং শুক্রকে যমজ বোন বা সিস্টার প্ল্যানেট (Sister Planet) বলা হয়। পৃথিবী বড়, শুক্র ছোট। দুটি গ্রহের মধ্যে ব্যাসের তফাৎ মাত্র ৬৫২ কিলোমিটার। দুটি গ্রহের মধ্যে মিল যেমন আছে তেমন অমিলও আছে। সবচেয়ে বড় অমিল এখানকার আবহাওয়া। এই গ্রহকে ঘিরে আছে পুরু সালফিউরিক অ্যাসিডের মেঘ ও কার্বন ডাইওক্সাইড। কোনোটাই মানুষের বসবাসের উপযোগী নয়। এছাড়াও গ্রহটির গড় তাপমাত্রা ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বায়ুমণ্ডলের চাপ পৃথিবীর তুলনায় ৯২ গুণ বেশি। এখানে আছে নানা আকারের আগ্নেয়গিরি। ১০০ কিলোমিটারের অধিক বিস্তৃত বিশাল আকারের আগ্নেয়গিরি আছে ১৫৫ টার মতো। এছাড়া মাঝারি ও ছোট আকারের আরও অনেক আছে। এখন প্রশ্ন হল এরকম পরিবেশে মানুষ থাকবে কীভাবে? এ প্রশ্নের সমাধান করে ফেলেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন মানুষ সেখানে গিয়ে গ্রহের মাটির উপর বাড়ি-ঘর বানিয়ে থাকবে না। থাকবে আকাশে ভেসে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন গ্রহটির পৃষ্ঠতল থেকে ৫০ কিলোমিটার উপরে চাপ, ঘনত্ব, মাধ্যাকর্ষণ ইত্যাদি অনেকটাই পৃথিবীর মতো। তাই তাঁদের ধারণা সেখানে শহর গড়ে তুললে পৃথিবীর মানুষের থাকতে অসুবিধা হবে না। তাই সেখানে পাঠানো হবে মানুষ বহনকারী নভোযান। এবং গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক শহর যা শুক্রের আকাশে ভেসে বেড়াবে। সৌর প্যানেলের সাহায্যে সূর্য থেকে দূষণহীন অফুরন্ত শক্তি পাওয়া যাবে। এই পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাসা’র সিস্টেম অ্যানালিসিস ও কনসেন্ট ডিরেক্টরেটের বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার জোন্স। ব্যাপারটা কবে বাস্তবরূপ পাবে তা অবশ্য তিনি এখনই জানান নি।


    তথ্য সূত্রঃ সায়েন্স মনিটর


    সম্পাদকীয় সংযোজনঃ



    ১। কেমন করেঃ
    প্রধান সমস্যাটা হল, ভাসমান বাসস্থানকে ভুপৃষ্ঠ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার ওপরে বসানো। কেন? কারণ যখন কোন মহাকাশযান গ্রহের আবহমণ্ডলে এসে ঢোকে তখন তা বেজায় জোরে ছুটতে থাকে তার ভুপৃষ্ঠের দিকে।মাঝ আকাশে তাকে থামানো, তারপর ভাসিয়ে রাখাটা এখনো পর্যন্ত আমরা ঘটাতে পারিনি। এর জন্যে যেভাবে কাজটা ভাবা হচ্ছে তা এইরকম—
    মানুষজন, যন্ত্রপাতিসহ বাসস্থলটাকে একটা ভাঁজ করে রাখা এয়ারশিপের ভেতর বসানো থাকবে। গোটা জিনিসটা থাকবে একটা এরো শেল-এর নিরাপদ আশ্রয়ে। এইবার সেটা ঘন্টায় ৪৫০০ মাইল বেগে শুক্রের আবহমণ্ডলে ঢুকে বাতাসের সঙ্গে ঘষা খেয়ে দ্রুত গতি কমাবে। গতি যখন সেকেন্ডে সাড়ে চারশো মিটারে এসে দাঁড়াবে তখন এরোশেলটা খসে গিয়ে বেরিয়ে আসবে ভাঁজ করা এয়ারশিপ। তার ভেতরের স্পেস মডিউলের রোবোটরা তাতে হিলিয়াম গ্যাস ভরে দিলেই এয়ারশিপ ভেসে পড়বে আকাশে। আর নীচে নামবে না। তার নিচে গন্ডোলায় দুলতে থাকবে বাসস্থল।



    ২। শুক্রগ্রহে মাংস রান্না
    ভবিষ্যতকালে যারা শুক্রের আকাশে ভাসমান এই কলোনিতে থাকবে তাদের জন্য একখানা মাংস রোস্ট করবার দারুণ কায়দা বলেছেন জর্জ টার্নার নামে এক বিজ্ঞান লিখিয়ে।
    শুক্রের আবহাওয়া বেজায় গরম। তার ওপর তার বাতাসে ভরপুর রয়েছে তীব্র অ্যাসিড। এখন, অ্যাসিড মাংসের কোষকলাগুলোকে ভেঙে, চর্বি গলিয়ে মাংসকে তুলতুলে নরম করে তোলে যে সে তো তোমরা জান। ওইজন্যেই তো মা মাংস রান্না করবার আগে তাতে দই (ল্যাকটিক অ্যাসিড) বা ভিনিগার (অ্যাসেটিক অ্যাসিড) মাখিয়ে রেখে দেন। তা জর্জ টার্নার বলছেন, আকাশনগরীর বাসিন্দারা লম্বা দড়িতে করে মাংসের স্তূপ যদি ঝুলিয়ে রাখে অনেক নীচের ঘন অ্যাসিড ভরা শুক্রগ্রহের মেঘের ভেতর তাহলে খানিক বাদেই, নীচে থেকে উঠে আসা ভয়ংকর গরমের স্রোত আর অ্যাসিডে মিলে সে মাংসকে এমন তুলতুলে করে রান্না করে দেবে যে জিভে জল আসা আটকায় কে। ভাবো কান্ড একবার!