৫ মার্চ ২০১৬

খবরকাগজ
  • পিঁপড়ের বাসায় সিঁধেন চোর
    কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়


    পাশের ঘরে চোর অথচ ধরার উপায় নেই- এমন কথা কখনো শুনেছ? পিঁপড়ে সমাজে সেইরকমই অবস্থা। ডেঁয়ো পিঁপড়েদের মতো বড়ো আকারের পিঁপড়েরা যেখানে বাসা বানায় চোর পিঁপড়েরা ঠিক তার পাশে গিয়ে বাসা বানায়। এরা দেখতে খুব ছোটো হয়। তাদের বৈজ্ঞানিক নাম সোলেনপসিস মোলেস্টা। বড়ো পিঁপড়েরা এই পুঁচকেগুলোকে প্রথম দিকে কোনো পাত্তাই দেয় না। বাসা বানাচ্ছিস বানা কিন্তু কোনো দিন পিছনে লাগতে আসিস না। তাহলে মেরে লোপাট করে দেব- এমনই এদের ভাবখানা। পুঁচকেগুলোও কোনো ঝামেলা করে না। ভালোমানুষের মতো বাসা বানাতে থাকে। এই সময় এদের দেখলে মনে হবে যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। অথচ এরা এক একটা বিচ্ছু।
    বাসা বানানো শেষ হলেই শুরু হয় এদের খেল। নিজেদের বাসার ভিতর থেকে বড়ো পিঁপড়েদের বাসার ভাঁড়ার পর্যন্ত শুরু হয় এদের সিঁদ কাটা। এই কাজ এরা এতটাই চুপি চুপি করে যে বড়ো পিঁপড়েরা কোনো ভাবেই টের পায় না। সিঁদ কাটা শেষ হলে শুরু হয় এদের আসল কাজ। বড়ো পিঁপড়েদের ভাঁড়ার থেকে খাবার চুরি করে নিয়ে এসে তোলে নিজেদের ভাঁড়ার ঘরে। প্রথম প্রথম বড়ো পিঁপড়েরা বুঝতে পারে না যে তাদের ভাঁড়ারে চোর ঢুকেছে। কিছুদিন পর যখন দেখে যতই খাবার ভাঁড়ারে রাখা হোক না কেন ভাঁড়ার কিছুতেই ভর্তি হচ্ছে না, তখন তাদের সন্দেহ হয়। চোর কোথায়, খোঁজ খোঁজ় বলে বেরিয়ে পড়ে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে। আতিপাতি খুঁজেও চোরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। পাশের বাড়ির পুঁচকাগুলো বাসার ভিতরে নিজেদের কাজ নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকে। তাহলে চুরি করল কে? আর চোর গেলই বা কোথায়? এবার শুরু হল নিজেদের বাসার ভিতরে খোঁজা। কে একজন চেঁচিয়ে উঠলো, পাওয়া গেছে। ছুটলো সবাই সে দিকে । তাজ্জব ব্যাপার? পাশের বাড়ির পুঁচকেগুলোরই এই কাজ? বদমাশ কাঁহাকা। মারো ব্যাটাদের। কিন্তু মারবে কে? সিঁদের মুখ আর বাসায় ঢোকার প্রধান ফটক দুটোই এত ছোটো যে এত বড়ো শরীর নিয়ে ওর ভিতর দিয়ে ঢোকাই দুষ্কর। অতএব ক্ষুদেগুলোর বাসার বাইরে দাঁড়িয়ে হম্বিতম্বি করা ছাড়া আর কিছুই ওদের করার থাকে না।



    কলস গাছের পাতাতে কলসের মতো দেখতে একটা ফাঁপা অংশ থাকে। এর ভিতরে থাকে জারক রস। এই রসে একটা মষ্টি গন্ধ থাকে। এই গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে কোনো পোকা এর গায়ে বসলে আর দেখতে হবে না। পা হড়কে একেবারে রসের মধ্যে। কারণ কলসের ভিতরের দিকের গা টা খুব পিচ্ছিল হয়। রসে একবার পড়লে পোকা আর উঠতে পারে না। ধীরে ধীরে জারিত হয়ে গাছের খাদ্যে পরিণত হয়। বোর্নিওতে এক ধরনের পিঁপড়ে আছে যারা কলসের পিচ্ছিল গা বেয়ে সর্‌ সর্‌ করে নেমে যেতে পারে আবার উঠেও আসতে পারে। তাদের নাম Camponotus schmitzi (ক্যাম্পোনোটাস স্কিমিজি)শুধু তাই নয়, কলসের ওই জারক রসে এদের কিচ্ছু হয় না। এরা এই গাছের কাছে ঘুর ঘুর করতে থাকে। কোনো পোকা জারক রসে পড়তে দেখলেই এরা কলসের গা বেয়ে তর তর করে নেমে যায়।


    ডুবসাঁতার দিয়ে বাটপাড়ির আয়োজন করছে ছোট্টো চোর

    তারপর ডুবুরির মত রসে ডুব দিয়ে পোকাটাকে কামড়ে ধরে দে-চম্পট। গাছের তো আর হাত পা নেই যে চোরকে ধরে কষে দু-ঘা লাগিয়ে দেবে? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হা-হুতাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না বেচারার। চোর পিঁপড়ে বিনা বাধায় গাছের শিকার নিয়ে মহানন্দে ভোজের আয়োজন করে।