২৫ ডিসেম্বর ২০১৩

খবরকাগজ
  • মেরি ক্রিসমাস। সান্তা এসেছিল কি রাত্রে? কী দিল এবারে সান্তা? আজকের দিনে একখানা দারুণ রোমাঞ্চকর খবর তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে বেজায় আনন্দ হচ্ছে।


    খবরটা হল, সেই যে লর্ড অব দি রিংস আর দা হবিট-এর এলফরা, তারা এখনও আছে বলে খবর এসেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে। লেটেস্ট খবরটা এইখানে আগে সংক্ষেপে বলে নিই।


    আইসল্যান্ডের আলফটেনস উপদ্বীপ থেকে রিকজেভিক অবধি একটা নতুন হাইওয়ে তৈরি হচ্ছিল। লোকজনের বক্তব্য ওর পথে হুলদুফোকদের (মানে এলফদের) একটা বড় আস্তানা আছে। সে আস্তানা ভাঙা পড়বে এই ভয়ে সেখানকার এলফভক্ত আর পরিবেশবিদরা মিলে আন্দোলন শুরু করেছেন, রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়া হোক। নইলে এত হুলদুফোক যাবে কোথায়? প্রতিদিন শয়ে শয়ে লোক এসে রাস্তাওয়ালাদের বুলডোজারের সামনে অবরোধ করছেন। উপস্থিত সে দেশের “ফ্রেন্ডস অব লাভা” নামের এক গোষ্ঠী এ নিয়ে সেখানকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ রাখা আছে।
    এলফরা বেশ ভালোরকমই আছে আইসল্যান্ডের বরফ আর আগ্নেয়গিরির দেশে। চোখে দেখা যায় না বলে সে দেশে তাদের ডাকা হয় ‘হুলদু ফোক’ বা ‘গোপন জন’ নামে। ২০০৭ সালে ও দেশে একটা সার্ভে করা হয়েছিল , তাতে দেখা যায় সে দেশের শতকরা বাষট্টি ভাগ মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস হুলদুফোকরা তাদের সঙ্গেই থাকে, তারাও সে দেশের নাগরিক। শুধু খালি চোখে তাদের দেখা মেলে না এই যা। সে দেশের রাস্তায় তুমি এইরকমের রোডসাইনও দেখতে পাবে মাঝেমধ্যে।


    এর একটা দারুণ ফল হয়েছে এই যে, পৃথিবীর আর কোন দেশের মা বাবারা তাদের ছেলেমেয়েদের সন্ধের পর বনেজঙ্গলে বরফপাহাড়ে একা একা ঘুরতে আর খেলতে দিতে রাজি না থাকলেও আইসল্যান্ডের ছোটরা সেই স্বাধীনতাটা পুরোপুরি পায়। বাবা মায়েদের কোন ভয় থাকে না। হুলদুফোকরা তো আছেই ছেলেমেয়েদের দেখবার জন্যে। আর তারা যে কি বীর সে তো যারা লর্ড অব দা রিং কিংবা সদ্য রিলিজ হওয়া ডেসোলেশান অব স্মগ ছবিটা যারা দেখেছে বা হবিট বইটা যারা পড়েছে তারা সবাই জানে।
    ‘রাগনাহিলদুর জনসদোতির’ নামে এক ভদ্রলোক আছেন সে দেশে যিনি আবার হুলদুফোক দের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা বলে থাকেন।
    আইসল্যান্ডে তাই মাঝেমধ্যেই কোন কোন জায়গায় রাস্তা, কারখানা এইসব তৈরি হতে শুরু করতেই বেজায় হইচই শুরু হয়, যে হুলদুফোকদের আস্তানা ভাঙা পড়বে। তখন সেখানে কাজ কিছুদিন থামিয়ে দেয়া হয়, তারপর কাগজে সরকারি বিজ্ঞাপন বেরোয়,
    “নির্মাণকার্য কিছুদিন বন্ধ রাখা হয়েছে ও ওই এলাকার হুলদুফোকেরা অন্য এলাকায় পুণর্বাসন নিয়েছেন।”
    ফ্রেন্ডস অব লাভার কাজে আর সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাস্তা বানাবার কাজ উপস্থিত বন্ধ হওয়ায় হুলদুফোকরা নিশ্চয় বেজায় খুশি হবে। সেইসঙ্গে খুশি হবে ইয়ুল ল্যাড নামে তাদের তেরোজন ট্রোল বন্ধু, যারা সান্তা আসবার আগের তেরোদিন ধরে রোজ রাতে একজন করে এসে হাজির হয় আর ছোটদের মোজার মধ্যে ভালো কাজের পুরষ্কার বা খারাপ কাজের শাস্তি ভরে রেখে যায়।


    এই তেরো ট্রোলের গল্প একটুখানি বলে শেষ করব আজকের খবর।
    স্টেকজারস্টর(ভেড়া জ্বালানি)-- ভেড়াদের উৎপাত করে, পা গুলো শুয়োরের মত । হাজির হয় ১২ ডিসেম্বর রাতে।
    গিলজাগর (দুধচোরা)--অলিগলিতে লুকিয়ে থাকে আর সুযোগ পেলেই গরুর দুধ চুরি করে খায়। হাজির হয় ১৩ ডিসেম্বর রাতে।
    স্টুফুর(বাঁটকুল)--ভারী বেঁটে। থালায় পড়ে থাকা রুটির টুকরো চুরি করে খায়। হাজির হয় ১৪ ডিসেম্বর রাতে।
    ফরুসলিকার(চামচে চাটা)-- বেজায় রোগা। চামচে চুরি করে চেটে খায়।হাজির হয় ১৬ ডিসেম্বর রাতে।
    আসকাসলিকার(বাটিচাটা)-- খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। খেয়ে হাতের বাটিটা নিচে নামিয়ে রাখলেই এসে চুরি করে নিয়ে চেটে খাবে। হাজির হয় ১৭ ডিসেম্বর রাতে।
    হুরোস্কালির(দোরনাড়ান )-- রাতের বেলা দরজা ধরে হমাধম ঝাঁকুনি মেরে ভয় দেখাতে ভারী মজা পায়। হাজির হয় ১৮ ডিসেম্বর রাতে।
    স্কাইরগামুর(দইচোর)-- দই চুরি করে খেয়ে যায়। হাজির হয় ১৯ ডিসেম্বর রাতে।
    জুগনাক্রাকির(সসেজচোর)- - ছাদের বিম থেকে ঝুলে থাকে আর ফাঁক পেলেই সেঁকতে দেয়া সসেজ চুরি করে নিয়ে পালায়।হাজির হয় ২০ ডিসেম্বর রাতে।
    গ্লুগগাগাগির (জানালাভূত)--জানালা দিয়ে চুপিসারে উঁকি মেরে দাঁড়িয়ে থাকে আর ফাঁক পেলেই যা পায় চুরি করে নেয়।হাজির হয় ২১ ডিসেম্বর রাতে।


    গাট্টাপেফুর(নেকো)- - বিরাট লম্বা নাক। লফাব্রাউ নামের রুটির গন্ধ পায় বহুদূর থেকে আর গন্ধ পেলেই এসে চুরি করে নিয়ে চলে যায়। হাজির হয় ২২ ডিসেম্বর রাতে।
    কেটক্রোকুর(মাংসচোর)-- লম্বা হুক নিয়ে ঘোরে আর তাই দিয়ে মাংস চুরি করে। হাজির হয় ২৩ ডিসেম্বর রাতে।
    কেরটাস্নিকির(মোমবাতি চোর)--বাচ্চা ছেলেমেয়েদের পেছনে ধাওয়া করে তাদের হাত থেকে মোমবাতি চুরি করে নিয়ে খায়। হাজির হয় ২৪ ডিসেম্বর রাতে।
    ওহো বলতে ভুলেছি, কখনো আইসল্যান্ডে গেলে হাফনারফিওর্দুর নামের বন্দর এলাকায় অবশ্যই ঘুরে এসো। ওখানে একটা বিরাট পাহাড় আছে যেখানে হাজারো এলফেরবাসা নাকি। সেইজন্য ২০০৫ সালে ওখান দিয়ে যে রাস্তাটা তৈরি হবার কথা ছিল সেটাকে ঘুরিয়ে অন্য দিক দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেদেশের সরকার। নইলে এলফদের বাসস্থানের সমস্যা হবে যে!