১১ আগস্ট ২০১৪

খবরকাগজ
  • আকাশ দেওয়ালি



    আজ দুপুরে ভালোকরে ঘুমিয়ে নেয়া চাই। রাত্তিরে মহাকাশে সাংস্কৃতিক উৎসব আছে।



    বলি শোন। চাঁদটা আজ বছরের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসে হাজির হয়েছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে শতকরা চোদ্দ ভাগ বেশি কাছে। ওতে তার ঔজ্জ্বল্য বাড়বে অন্যান্য পূর্ণিমার থেকে শতকরা তিরিশ ভাগ। সন্ধেরাতে ছাদে উঠে সেই বড়ো চাঁদটা দেখতে হবে।

    এ তো গেলো ছোট আইটেমটা। মূল অনুষ্ঠান দেখতে হলে মাঝরাত থেকে শেষরাত অবধি জেগে থাকা চাই। সেটা হল মহাকাশী আতসবাজির উৎসব।
    ৩৬ সালে চিনেরা প্রথম এ উতসব দেখে তার গল্প লিখে রেখে গিয়েছিল তাদের পুথিতে। ১৮৩৫ সালে এডলফ কোয়েতেলে অনেক দেখেশুনে বললেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝিতক, প্রতি বছর মহাকাশ থেকে দেওয়ালির আতসবাজি উৎসবের মতই উল্কাবৃষ্টি হয় পৃথিবীর আকাশে। এই উল্কার দল ধেয়ে আসে পারসিয়াস নামের তারামন্ডলের দিক থেকে। পারসিয়াস নামটা জানো কি? তিনি ছিলেন এক প্রাচীন গ্রিক যোদ্ধা তার নামেই সে তারামালার নাম। বিজ্ঞানীরা তাই এই বার্ষিক উল্কাবৃষ্টির নাম রাখলেন পারসিড শাওয়ার। পারসিড মানে পারসিয়াসের ছেলেপুলে।
    আমাদের দেওয়ালির সঙ্গে মহাকাশ দেওয়ালির তফাত একটাই। সেটা হল, আমাদের দেওয়ালি হয় একদিন, আর এই উৎসব চলে পুরো এক মাস ধরে। জুলাইয়ের মাঝ থেকে শুরু হয়ে গেছে এই উল্কাবর্ষণ। এ সময়টা বেশির ভাগ সময় আকাশ মৌসুমী মেঘে ঢাকা থাকে বলে আমরা তা বিশেষ দেখতেটেখতে পাই না। শেষলগ্নে এসে, আজ থেকে শুরু করে ১৪ আগস্ট তারিখ অবধি পারসিড উল্কাবৃষ্টি বা আকাশ দেওয়ালি একেবারে তুঙ্গে থাকবে। সেএ সময় গড়ে ঘন্টায় ষাটখানা করে উল্কা জ্বলে পৃথিবীর আকাশে।কখনো এক ঘন্টায় আশিটা অবধিও উল্কাপাত হয়। সে এক দারুণ দৃশ্য।



    কোয়েতেলে কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারেন নি ঠিকঠাক। উল্কাগুলো আসে কোথা থেকে? পারসিয়াস নক্ষত্রমন্ডল আকাশের যেখানটাতে থাকে সেইদিক থেকে ওরা হাজির হয় বটে কিন্তু নক্ষত্র থেকে তো আর শয়ে শয়ে আলোবছর পেরিয়ে উল্কারা পৃথিবীর আকাশে বছরে একবার দলে দলে তারাবাজি খেলতে আসবে না। তাহলে?
    বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, ওরা আসলে আসে একটা ধূমকেতুর থেকে। তার নাম সুইফট টাটল। (ধুমকেতুটা কিন্তু মহা পাজি। ব্রায়ান জি মার্সডেন নামে এক বিজ্ঞানি হিসেব করে দেখিয়েছেন, ২১২৬ সালের ১৪ই আগস্ট এ ধুমকেতুটা পৃথিবীর বুকে ধাক্কা খাবার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সেই নিয়ে জয়ঢাকের পাতায় তার ১৯ নং ইন্টারনেট সংখ্যা থেকে "অন্তিম অভিযান" নামে একটা দারুণ রোমাঞ্চকর সায়েন্স ফিকশান অ্যাডভেঞ্চার ধারাবাহিক বের হয়ে চলেছে কিছুদিন ধরে। তার প্রথম এপিসোডের লিংক দেয়া রইল পাশের ছবিতে। ছবিতে ক্লিক করে সেই উপন্যাসের পাতায় চলে যাও। ভালো লাগলে পরপর সংখ্যাতে তার এপিসোডগুলো পড়ে ফেলো।


    তা এই সুইফট টাটলের সূর্যকে ঘিরে ১৩৩ বছর লম্বা কক্ষপথটা জুড়ে সে তার শরীরের থেকে আবর্জনা ছড়াতে ছড়াতে যায়। এর ফল গোটা কক্ষপথটা জুড়ে তৈরি হয়ে আছে উল্কার একটা মেঘ। একে পারসিড ক্লাউড বলে। সেই পারসিড ক্লাউড থেকেই এই উল্কাবৃষ্টির জন্ম।
    যদিও সারা দিনরাত ধরে উল্কাবৃষ্টি চলছে এখন, তবে ভালো করে দেখবার সেরা সময় হল মাঝরাত থেকে শেষরাত। সে সময় উল্কাবৃষ্টির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এ বছর যেহেতু চাঁদখানা বেজায় বড়ো আর অনেক বেশি উজ্জল, তাই চোখে পড়বে শুধু সবচেয়ে উজ্জ্বল উল্কাগুলোই।
    আবহাওয়া দফতর থেকে জয়ঢাক খোঁজ করে জেনেছে আজ রাত তিনটের সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে শূন্য। আগে পরে বৃষ্টি হএ যদিও একটু আধটু।
    তাহলে আর দেরি কেন? দুপুরটা একটু ঘুমিয়ে নাও। তারপর রাত হলেই একটা মাদুর নিয়ে সোজা বাড়ির ছাতে। আজ সেখানে পিকনিক, আর সেইসঙ্গে বিরাট চাঁদ আর মহাকাশের তারাবাজি।