২৯ নভেম্বর

খবরকাগজ
  • ঝগড়ার প্রথম পক্ষঃ

    দিপু সিংহ এক্কেবারে ক্ষ্যাপা। হাবরায় বাড়ি। লটারির টিকিট বেচে খায়। রোজগার মাসে তিন হাজার। বাড়িতে আছে বউ আর দুই ছেলেমেয়ে।


    ঝগড়ার দ্বিতীয় পক্ষঃ

    বানীপুরের মিষ্টির দোকানের মালিক জয় সাহা।


    ঝগড়ার বিবরণঃ

    জয় একদিন দীপুকে ফোন করে বলল, সিকিম রাজ্য লটারির কিছু টিকিট কিনতে চায়।দীপু বলল ৩৬টা টিকিটে একখানা গোছা আছে। দাম বাহাত্তর টাকা। জয় বলল তাহলে সেগুলো সে কিনছে। পরে পয়সা দেবে। দিপু যেন টিকিট রেখে দেয়।
    দিপু টিকিট রেখে দিল জয়ের জন্য। আর কাউকে বেচল না। লটারির তারিখ পেরিয়ে গেল। তবু জয় টিকিট নিতে এল না। টিকিট নিয়ে দিপু জয়ের বাড়ি ধাওয়া করল, কিন্তু জয়কে পেল না।
    এবারে খবর এল সেই টিকিটের গোছায় আড়াই লাখ টাকা প্রাইজ উঠেছে। সবাই দিপুকে নিয়ে নাচানাচি জুড়ল। কিন্তু দিপু বলল, ও টিকিট তার নয়। জয় ও টিকিট কিনবে বলেছিল। অতএব ও পুরষ্কার জয়ের। ও টাকা আমি নিলে অধর্ম হবে। এইবার টিকিট নিয়ে দিপু ফের জয়ের বাড়ি হাজির। দাবি, টিকিট তোমায় বেচেছি। পুরষ্কার তুমি নাও। আমায় টিকিটের দাম বাহাত্তর টাকা দাও।
    জয় রাজি নয়। বলে আমি পয়সা দিইনি আমি কেন নেব ও টাকা? ও টাকা তোমার।
    লাগল কথা কাটাকাটি। জয়ও নেবে না, দিপুও ছাড়বে না। শেষে অনেক তর্কাতর্কির পর ঠিক হল ও টাকা থেকে জয় দিপুর মেয়ের নামে পঞ্চাশ হাজার টাকা ফিক্সড করে দেবে। এইবার দিপু কাবু। জয় যদি তার মেয়েকে টাকা দেয় তাহলে তার আর কি বলার থাকে?
    এই করে ঝগড়ার শেষ হল।
    জয় বা দিপু কেউ বড়লোক নয়। তারা এ দেশের বড় বড় মানুষদের মত শক্তিশালী নয়, বড়লোকও নয়। তারা আমাদের গরিবদেশের দুজন গরিব মানুষ। এমন সব পাগল থাকলে আমাদের দেশের কখনো উন্নতি হবে নাকি?
    না হোক গে উন্নতি। এই পাগলগুলো আছে বলেই তো এখনো আমরা ভালো আছি। এই পোস্টটা লিখছি যখন তখন আমাদের ছোট্ট ছেলেটা মাখনলাল চতুর্বেদির একটা কবিতা পড়ছে, তাতে একটা ফুল বলছে, আমি দেবতার মাথায় চড়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতে চাইনা, আমি চাই সৎ মানুষদের চলার পথে লুটিয়ে থাকতে। সেই আমার সৌভাগ্য। ঠিক কথা। সেই কথা অনুসরণ করে দিপু আর জয়কে শ্রদ্ধা জানাল জয়ঢাক। আপনাদের মত আরো মানুষ আসুক আমাদের দেশে।