২০ জুন ২০১৪ গালফ নিউজ

খবরকাগজ
  • পুরো নাম: প্রেরণা পাই।

    বয়েস : এগারো
    স্কুল: দিল্লি পাবলিক স্কুল, শারজা

    নাসা নামে যে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র আছে তারা "কিউবস ইন স্পেস" নামে একটা প্রজেক্ট চালায়। ১১ থেকে ১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা যদি মহাকাশ বিষয়ে কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে চায় আর তার পরীক্ষার মডেলটা নাসার পছন্দ হয় তাহলে নাসার মহাকাশযান নিখরচায় সে পরীক্ষাটা মহাকাশে নিয়ে গিয়ে করিয়ে দেবে।(তুমি কি উৎসাহী? তাহলে এইখানে খোঁজ নাও :www.cubesinspace.com)তা, শারজার ডি পি এস ইশকুলের ক্লাশ ফাইভের খুদে  বিজ্ঞানি প্রেরণা এমন দুটো পরীক্ষার মডেল বানিয়েছে যা পছন্দ হয়েছে নাসার। 

    প্রথমটার নাম "টু স্টিক অর নট টু স্টিক।" এখানে সে পরীক্ষা করতে চেয়েছে মহাকাশে নানা ধরনের আঠা বা সুতো কত শক্তভাবে জিনিসপত্রকে জুড়ে রাখতে পারে। এজন্য প্রেরণা করেছে কি, ফেলে দেয়া থার্মোকলের থেকে বারোটা টুকরো কেটে তাই দিয়ে একটা  ঘনক বানিয়েছে। তার বিভিন্ন  কোনগুলোকে সে জুড়েছে মডেলিং ক্লে, সুতো,তার, সেলোটেপ, মোম, সাধারণ আঠা, সুপার গ্লু, এইসব বিভিন্ন জিনিস দিয়ে। জিনিসটা অভিকর্ষহীন  মহাকাশে গেলে এদের মধ্যে কোনটা সে অবস্থায় বেশি ভালো কাজ করবে আর কোনটা কম ভালো, তা মাপা যাবে কিউবটা মহাকাশ থেকে ফিরে এলে তার কোণগুলো কোনটা কেমন আছে তাই দেখে আর তার মাপজোক নিয়ে।

    দু নম্বর পরীক্ষাটা হল কাচ আর প্লাস্টিকের ওপর মহাকাশের প্রভাব। ছোট ছোট দুখানা কাচ আর প্লাস্টিকের বোতলের মুখ কর্ক দিয়ে বন্ধ করে একটা বাক্সেরমধ্যে রেখেছে প্রেরণা। মহাশূণ্যর হাওয়া ও চাপহীন দেশে কেমন হবে তাদের দশা? কতটা ক্ষতি হবে গড়ণের? কে বেশি ভালো থাকবে সেখানে? কাচ না প্লাস্টিক?  এইসব প্রশ্নের জবাব দেবে এই পরীক্ষা।

    এর সাথেই তিন নম্বর একটা পরীক্ষা জুড়ে দিয়েছে প্রেরণা। বোতলভরা  বাক্সের গায়ে সে আটকে দিয়েছে একটা সস্তার ঘড়ি। তার সময়ের সাথে সময় মিলিয়ে নিজের কাছে ওমনি আর একখানা ঘড়ি রেখেছে সে। এক নম্বর ঘড়ি মহাকাশ থেকে ফিরলে সে তার সাথে দু নম্বর ঘড়িকে মিলিয়ে দেখবে অত জোরসে ছোটাছুটি করবার ফলে তার সময় পৃথিবীর সময়ের থেকে জোরে বা আস্তে ছুটেছে কি  না। সে এ পরীক্ষায় আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রমাণ খুঁজছে।

    ২৬ জুন নাসার রকেটে চেপে প্রেরণার এই পরীক্ষাগুলো মহাকাশে যাচ্ছে। রকেট ফেরবার পর নাসা প্রেরণার কাছে তার পরীক্ষাগুলোর ফলাফল পাঠাবে তার গবেষণা শেষ করবার জন্যে।

    আমরা সবাই প্রেরণাকে অভিনন্দন জানাই এসো। আর প্রার্থনা করি তার পরীক্ষাগুলো সফল হোক আর ভবিষ্যতে মানুষের কাজে আসুক।

    মনের মধ্যে এমন কোন পরীক্ষা জমে আছে? বয়েস ১১থেকে ১৪ হলে তোমরাও তা পাঠাতে পারো নাসাকে। খোঁজখবরের সাইটের খবর তো ওপরেই দিয়েছি।