২১ জানুয়ারি ২০১৬

  • কাগজ হল ফিনিক্স-পেপারল্যাবের জাদু


    যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি অফিসে যাও, দেখবে টেবিলে বা শেলফে থাক থাক সাজানো আছে ফাইল। ফাইল মানেই কাগজ। আগে কাগজেই সমস্ত লেখাজোখা হতো, চিঠিপত্রও, ইমেল চালু হবার পরে সেসব কমে গেছে প্রচুর, তবু কাগজের ব্যবহার তো রয়েই গেছে। এর অপচয়ও কম নয়।

    অফিসের প্রিন্টারের পাশে সব সময় একগাদা প্রিন্ট হওয়া কাগজ পড়ে থাকে, অনেক সময় তা কেউ তুলেও দেখে না। কেন যে প্রিন্ট করতে দিয়েছিল কেউ, তার খোঁজ রাখাও হয় না।

    অথচ সমস্ত কাগজ ফেলে দেওয়া যায় না। এতে প্রিন্ট করা তথ্যাদি সেই সরকারি বা বেসরকারি অফিসের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে, যা অন্য কারো হাতে পড়া ঠিক না। বিশেষ করে বেসরকারি কোম্পানির গোপনীয় তথ্য তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির কারো হাতে পড়লে তা থেকে ব্যবসার সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

    সেই জন্যে এই সমস্ত কাগজ আগে মেশিনে ফেলে কুটি কুটি করে কাটা হয়, সেই মেশিনকে বলে শ্রেডার। শ্রেডারে শ্রেড হওয়া কাগজের তেমন কোনো ব্যবহার নেই, ফেলে দেওয়া ছাড়া। কেউ কেউ এগুলোকে প্যাকিং-এর জন্যে ব্যবহার করে, তবে এগুলোর তেমন কোনো মূল্য নেই।

    এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে এই বছরের মাঝামাঝি জাপানি সিকো এপসন কর্পোরেশন আনতে চলেছে পৃথিবীর প্রথম বাজে কাগজ থেকে নতুন কাগজ বানানোর মেশিন। বড়সড় প্রিন্টারের মতই দেখতে এই মেশিন শুকনো বাজে কাগজকে ছিঁড়েখুঁড়ে প্রথমে ফাইবার ও পরে সেই ফাইবারকে চাপ দিয়ে আবার কাগজে রূপান্তরিত করে। ট্রেতে বাজে কাগজ দিয়ে স্টার্ট বাটন টিপে দিলেই হলো, মাত্র তিন মিনিট পরেই তা থেকে নতুন কাগজ পাওয়া যাবে। মিনিটে চোদ্দখানা আর আট ঘন্টায় ৬৭২০ খানা কাগজ পাওয়া যাবে এই মেশিনে। বিভিন্ন সাইজের কাগজ বানানো সম্ভব, তারা কতটা পুরু হবে তাও ঠিক করে দেওয়া যায়, যায় এমনকি এই কাগজের সঙ্গে সুগন্ধি পারফ্যুম মেশানোও। টোকিওতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীকেন্দ্রে গত ডিসেম্বরের ১০-১২ তারিখে পেপারল্যাব নামে এই মেশিনের প্রদর্শনীতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। পেপারল্যাব প্রথমে জাপানে ও পরে বিশ্বের অন্যত্র বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপসন।

    প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ফোর সাইজের এক একপিস বন্ড পেপার তৈরিতে এক কাপ করে জল লাগে। কাগজ তৈরিতে অপচয় হয় প্রচুর জল। সেলুলোজের মন্ড বানিয়ে তা থেকেই তো কাগজ তৈরি হয়, জল লাগে সেই মন্ড বানাতে। আবার এই জল তাড়াতেও খরচ হয় প্রচুর এনার্জি। অপরিশোধিত অবস্থায় এই জল বাইরে ছাড়লে তা থেকে প্রাকৃতিক দূষণ হতে পারে। মোটকথা কাগজ বানানোর কারখানাগুলো ইকো-ফ্রেন্ডলি নয় মোটেও। চামড়ার মতই কাগজের কল প্রাকৃতিক দূষণের অন্যতম কারিগর।

    তবে পেপারল্যাব পুরোপুরি জল ছাড়া বানানো হয়। বাজে কাগজকে মিহি ফাইবারে পরিণত করে তাতে বাইন্ডার, রং, সুগন্ধি ইত্যাদি যোগ করে চাপ দিয়ে নতুন কাগজ বানানো হয় নির্দিষ্ট সাইজ আর পুরুত্ব অনুযায়ী।

    কাগজের দুনিয়ায় যুগান্ত আনতে চলেছে এপসনের পেপারল্যাব। এর ভিডিও দেখতে হলে ক্লিক করো এইখানে -