১২ জানুয়ারি ২০১৬

খবরকাগজ
  • চাঁদে নিজের নাম পাঠাও। খরচ পাঁচশো টাকা

    অমিতাভ প্রামাণিক

    এই ছবিতে বা নিচের যেকোন ছবিতে ক্লিক করলেই পৌঁছে যাবে চাঁদে নাম পাঠাবার ওয়েবসাইটে।


    গল্প নয়। একদম সত্যি। আমার নিজের দেশের বিজ্ঞানিরা নিজেদের প্রযুক্তিতে দুনিয়াজোড়া প্রতিযোগিতায় জিতে সুযোগটা এনে দিয়েছেন তোমাদের সবার হাতে। তুমি কি তাতে সাড়া দেবে না? মা বাবাকে বলো না একবার! পাঁচশোটা টাকাই তো মাত্র। তাতে কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে তোমার নামটা অক্ষয় থেকে যাবে চাঁদের বায়ুহীন বুকে।আর সেই টাকাটুকু লেগে যাবে এই প্রজেক্টের কর্ণধার কয়েকজন তরুণ ভারতীয় বিজ্ঞানির পরের প্রজেক্টে।
    ভারতের ছেলেমেয়েদের এক অভাবনীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে রিপোর্ট লিখলেন তোমাদের বিজ্ঞানিদাদা অমিতাভ প্রামাণিক।

    ২০১৭ সাল শেষ হওয়ার আগে চাঁদে নামাতে হবে রোবোটিক গাড়ি। সে ঘুরে বেড়াবে অন্তত পাঁচশো মিটার আর এই যাত্রাপথের হাই-রেজোলিউশান ছবি ও ভিডিও পাঠাবে পৃথিবীর বুকে। প্রথম পুরস্কার কুড়ি মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় পুরস্কার পাঁচ মিলিয়ন ডলার। ঘোষণা – গুগল লুনার এক্সপ্রাইজের। ২০০৭ সালে।
    এ আর এমন কী? গত শতাব্দীতে রাশিয়া ও আমেরিকা এসব তো করে দেখিয়েছে। অবশ্য তার পরে বহুকাল চলে গেছে। এই সেদিন, ২০১৪ সালে, তৃতীয় দেশ হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে চীন। তবে গুগলের এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটু ব্যাপার আছে। যে টিম এই কাজটা করে দেখাবে এই পুরস্কার পাওয়ার জন্যে, তার ৯০ শতাংশ খরচ যেন বহন করে বে-সরকারী সংস্থা। সরকারী উদ্যোগের জন্যে এটা নয়।



    আমাদের পোড়া দেশের কেউ এই ধরণের চ্যালেঞ্জ পড়ে উৎসাহিত হয় না। এক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম ঘটল। দিল্লী আই আই টির ইঞ্জিনিয়ার রাহুল নারায়ণ, শিলিকা রবিশঙ্কর, দিলীপ ছাবরিয়া এবং নির্মল সূরজকে সঙ্গে নিয়ে একটা স্টার্ট-আপ কোম্পানি খুলে বসলেন। নাম দিলেন টিম ইন্ডাস। স্পেস মিশন পৃথিবীর সমস্ত দেশেই সিক্রেট মিশন, এ সম্বন্ধে প্রযুক্তিগত খবরাখবর পাওয়া দুষ্কর। এঁরা ভেবেছিলেন পুরো ব্যাপারটাই নিজেরা করবেন। কিন্তু ক্রমে ক্রমে আরো বেশ কিছু উৎসাহী ও যোগ্য ব্যক্তিদের পেয়ে গেলেন সহযাত্রী হিসাবে। ইসরো থেকে রিটায়ার করা কয়েকজন যোগ দিলেন ওঁদের সাথে, তাঁরা নিজের হাতে স্যাটেলাইট বানিয়েছেন। ইসরোর প্রাক্তন অধিকর্তা কস্তুরীরঙ্গন ওঁদের অ্যাডভাইসার।
    ভারতের জাতীয় পতাকা চাঁদের মাটিতে পুঁতে দিতে টিম ইন্ডাস বদ্ধপরিকর। সতেরোটা দেশের উনতিরিশটা টিম এই চ্যালেঞ্জে সাড়া দিয়েছে। ভারত থেকে একমাত্র টিম ইন্ডাসই।
    আনন্দের খবর, যে রোভার চাঁদের মাটিতে নামবে, তার প্রাথমিক মডেল ডিজাইনের জন্যে টিম ইন্ডাস এর মধ্যেই পেয়ে গেছে এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার। আপাতত তারা প্রথম তিন টিমের মধ্যে রয়েছে এই চ্যালেঞ্জে। ২১শে সেপ্টেম্বর ওদের স্যাটেলাইট উড়বে ইসরোর পি এস এল ভি রকেটের মাধ্যমে। তোমরাও পারো এই ঐতিহাসিক গর্বে সামিল হতে। টিম ইন্ডাস ঠিক করেছে, পৃথিবী থেকে যে চাইবে, তার নাম একখন্ড ধাতব ঘনকে খুদে খুদে হরফে লিখে নিয়ে যাবে এরা। চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই । সেই লেখা অক্ষত থেকে যাবে বহুকাল। এর জন্যে ওরা চাইছে মাত্র পাঁচশো টাকা – back.teamindus.in এ অনলাইনে নাম পাঠানো যাবে। মঙ্গলযানের সাফল্য ভারতীয় স্পেস মিশনের টুপিতে এক উজ্জ্বল পালক। টিম ইন্ডাস সফল হলে তা হবে পৃথিবীর প্রথম বেসরকারী সংস্থা যে চাঁদে রোবট পাঠাতে পেরেছে।